আবাসিক ও পরিবহনে বিকল্প জ্বালানি তরলীকৃত পেট্রোলিয়ম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয় হতে পারে। যা দিয়ে সচল রাখা সম্ভব প্রায় এক হাজার শিল্পকারখানা। এমনটাই মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, প্রাকৃতিক গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতে গ্রহণ করতে হবে নীতি।
রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘক্ষণ। অপেক্ষার পরও গাড়ির সিলিন্ডারে ধারণযোগ্য গ্যাস মেলে না। এমন বিড়ম্বনা এড়াতে অনেকেই এখন এলপিজির দিকে ঝুঁকছে। ব্যক্তিগত গাড়ির চালকেরা বলছেন, এলপিজিতে খরচ তেলের চেয়ে কিছুটা কম। সিএনজি থেকে বেশি। তবে সহজেই এলপিজি নেওয়া যায় গাড়িতে। এতে হয়রানিও কম কিছুটা।
এদিকে, দীর্ঘদিন রাজধানীতে তিতাসের নতুন আবাসিক সংযোগ বন্ধ। তাই গৃহস্থালির রান্নাতেও বাড়ছে এলপিজির ব্যবহার। গ্যাস সংকটে কোনো কোনো তিতাস গ্রাহকও রাখছেন এলপিজি।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের পরিবহন ও আবাসিক খাতে ১৬ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। শিল্প ও বাণিজ্যিকখাতে ব্যবহার হচ্ছে ২০ ভাগ। কিন্তু বাড়তি দাম দিয়েও গ্যাসের অভাবে শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
এমন বাস্তবতায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবহন ক আবাসিকে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজি টেকসই জ্বালানি হতে পারে। তাঁদের মতে, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এলপিজিতে কিছু ভর্তুকি দিয়ে এই খাতের গ্যাস ধাপে ধাপে শিল্পে স্থানান্তর করা উচিত। এতে গ্যাসের চুরি ও অপচয়—দুইই কমবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, ‘শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের সবকিছুতেই এর প্রভাব পড়ে। লোকেরা চাকরি হারায়। এই অবস্থায় আমাদের চিন্তা করতে হবে, কোন কোন সেক্টর আমি রাখব, কোনটা রাখব না। আমি মনে করি, যেহেতু গৃহস্থালি এবং সিএনজির একটি ভালো বিকল্প এলপিজি আছে। আমরা সেটা ব্যবহার করতে পারি।’
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম বলেন, ‘রান্নাঘরের গ্যাস শিল্পে দেওয়া গেলে শিল্প অনেক লাভবান হবে। অনেক বড় একটা সমস্যা জ্বালানি। সেটার বেশ কিছুটা লাঘব হবে। একদিনে না করে, ধীরে ধীরে করা যায় কাজটি।’ ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা মোকাবিলায় শিল্পখাতের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোরও তাগিদ দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকেরা।
কমেন্ট বক্স